সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, ‘প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলা ও আগুন দেওয়া কারও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। শুধু একটি ভবনের ওপর আক্রমণ নয়; বরং মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ।’
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টার পরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) শুরু হয়েছে এই গণমাধ্যম সম্মিলন। সম্মিলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

সেখানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে নূরুল কবির প্রথম আলো- ডেইলি স্টারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও দমকলবাহিনীকেও আসতে বাধা দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘পৃথিবীর সভ্যতা বিকাশের এই পর্যায়ে, মধ্যযুগীয় কায়দায় কতগুলো সাংবাদিককে ওপরে রেখে, চারদিকে আগুন দিয়ে, দমকল বাহিনী আসলে বাধা দেয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মধ্যযুগীয় একটা বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ।’
সম্পাদক নূরুল কবীর আরো বলেন, এই হামলার ঘটনাকে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের সমর্থনের সুযোগ নেই। কারো সমর্থন আছে কি নেই সেটার সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক নেই। বরং এমন পরিস্থিতিতে সব গণমাধ্যম সমানভাবে হুমকির মুখে আছে। তিনি বলেন, ‘আজকে এটার মধ্যে হয়েছে কালকে আপনারটার মধ্যে হবে। পরশুদিন আরেকটার মধ্যে হবে।’
ভিন্নমতের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নূরুল কবীর বলেন, ‘সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাকবে, ভিন্ন ভিন্নভাবে মানুষ কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কোনো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।


